সাতক্ষীরায় তাণ্ডব চালিয়ে রাজশাহী গিয়ে ক্ষমতা হারায় ‘আম্পান’

ঘূর্ণিঝড় ‌‌‘আম্পান’ সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সারা রাত তাণ্ডব চালানোর পর একেবারেই দুর্বল হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে এটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আরও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি এখন রাজশাহীতে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ যেসব এলাকায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ও ৯ নম্বর বিপদ সংকেত ছিল, সেটি তুলে ফেলা হয়েছে। তার পরিবর্তে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় সাতক্ষীরা এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়টি।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরায় ক্ষতি প্রসঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, অন্তত চারটি উপজেলার ২৩টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে তিনি সঠিক কোন হিসাব দিতে পারেননি। আজ দুপুর নাগাদ একটা চিত্র পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

এখন পর্যন্ত সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি উপজেলা হচ্ছে- শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ এবং সাতক্ষীরা সদর বলে জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে ধরনের খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে অন্তত ৫/৭টি পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করে বহু চিংড়ি ঘের ও বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরায় আমেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের বাইরে সাতক্ষীরাতেও আমের বড় ধরনের ফলন হয়।

শুধু তাই নয়, গাছপালা পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। দমকল কর্মীরা রাস্তা থেকে ভাঙা গাছপালা সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করছেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড়টি মূলত বাংলাদেশে প্রবেশ করে শ্যামনগরের সর্ব দক্ষিণের লোকালয় মুন্সীগঞ্জ সংলগ্ন সুন্দরবন দিয়ে। এখান থেকে কিছুটা দক্ষিণে এগোলেই সুন্দরবনের ভারতীয় অংশ শুরু।

মুন্সীগঞ্জের সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন একটি চিংড়ি ঘেরের মালিক। তিনি জানান, কয়েক একর আকারের তার এই চিংড়ি ঘেরটি পানিতে তলিয়ে গেছে। তার গ্রামের কয়েকশো ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার গ্রাম সংলগ্ন নদীটির অন্তত দুটি পয়েন্ট থেকে বাঁধ ভেঙে গেছে। এগুলো এখনই সংস্কার করা না হলে ভাঙা এই পয়েন্ট দিয়ে ঢোকা পানি সংলগ্ন গ্রামগুলোর বাড়িঘরগুলোকেও ডুবিয়ে দেবে।

তবে এখন পর্যন্ত যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বলে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।



চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক : মনির চৌধুরী, সম্পাদক: মো: মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী সম্পাদক : মোঃ শফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ সৈয়দ ওমর ফারুক, নির্বাহী সম্পাদক: ঝরনা চৌধুরী।

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ১২ পুরানাপল্টন,(এল মল্লিক কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা)মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন বার্তা বিভাগ: ০২-৯৫৫৪২৩৭,০১৭৭৯-৫২৫৩৩২,বিজ্ঞাপন:০১৮৪০-৯২২৯০১
বিভাগীয় কার্যালয়ঃ যশোর (তিন খাম্বার মোড়) ধর্মতলা, যশোর। মোবাইল: ০১৭৫৯-৫০০০১৫
Email : news24mohona@gmail.com, editormsangbad@gmail.com
© 2016 allrights reserved to MohonaSangbad24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com