রিজার্ভ চুরির অর্থের হদিস মিলেছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ ফিলিপাইনের কোথায় আছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে করা মামলায় তিন বছর আগের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত ও সুবিধাভোগীদের আসামি করা হয়েছে।

শনিবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে এক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, এসব ডলার ফিলিপাইনের কোথায় আছে তা আমাদের জানা আছে।

সে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত এবং যারা সুবিধাভোগী তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। ৬৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৬ কোটি ৬৫ লাখ) ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ে এ মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (আইবিবি)-এর ১১তম পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিআইবিএমের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহিম ও বিআইবিএম সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে করা মামলায় ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) এবং ওই ব্যাংকের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ডজনখানেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।

এর মধ্যে একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। বাকি ৩৪টি মেসেজের মাধ্যমে আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয়া হয়।

ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, অল্প সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হয়। ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে সেই অর্থ চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেয়া হলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও কোনো হদিস মেলেনি।

গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক আমাদের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট করেছে মামলার প্রথম থেকে শুরু করে প্রতিটা ডলার উদ্ধার পর্যন্ত তারা আমাদের সঙ্গেই থাকবে।

কতদিনের মধ্যে এ মামলার সুরাহা হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন বলতে পারছি না। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হতে পারে। যেখানে এ মামলা করা হয়েছে এখানে সাধারণত জলদি হয়।

ফিলিপাইনে অনেক বিলম্ব হতো। ওখানে অনেক দীর্ঘসূত্রতা আছে। নিউইয়র্কে অনেক সুবিধা। আমরা আশা করছি খুব বেশি সময় লাগবে না।

বাংলাদেশের মামলাকে ভিত্তিহীন বলে আরসিবিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের প্রসঙ্গে ফজলে কবির বলেন, আরসিবিসি এটা বললেও বুঝতে হবে যে আরসিবিসির ওখানে সব টাকা গিয়েছিল।

অর্থাৎ ৮১ মিলিয়ন ডলার আরসিবিসিতেই গিয়েছিল এবং সেটি চারটা ফেইক অ্যাকাউন্টেই গিয়েছিল, যে অ্যাকাউন্টগুলো বৈধ না। এ কাজের জন্য আরসিবিসিকে ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের রেকর্ড সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে।

তাদের সাজা দিয়েছিল এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) পেসো, অর্থাৎ ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কাজেই আরসিবিসি এটা বললেই তো হয় না।

এর আগে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, সরকারের টার্গেট অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে নিয়ে যেতে হলে এ দেশকে রফতানিপ্রধান অর্থনীতির দেশ করতে হবে। এভাবে দেশের অর্থনীতিকে সাজানোর জন্য দেশের ব্যাংক খাতকে ভূমিকা নিতে হবে।



চেয়ারম্যান: সৈয়দ ওমর ফারুক

সম্পাদক ও প্রকাশক: ফয়সাল রানা

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ মতিউর রহমান (মতিন)

নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মেহেদী হাসান রবিন

বার্তা সম্পাদক: সোহেল আলম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

১২ পুরানা পল্টন, এল মল্লিক কমপ্লেক্স, ৭ম তলা ঢাকা-১০০০।
ফোন বার্তা বিভাগ: +৮৮ ০১৬৭১৩৩৭৯৫২
ই-মেইল: news.mohona24@gmail.com
© 2016 allrights reserved to MohonaSangbad24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com