হাজারো নিলয় এখনো বেঁচে আছে

এ এস এম সাজ্জাদ হোসাইন :

নিলয় হত্যাকাণ্ডের দুই বছর দুই বছর পূর্ণ হবে আগামী ৭ই আগষ্ট ।  নিলয় নীল চ্যাটার্জী যুক্তি, বিজ্ঞান ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রচারের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি নাস্তিকতা, নারীবাদ, মানবতাবাদ এবং ধর্মের বিভিন্ন প্রতিহিংসামূলক দিসহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখতেন। তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদ করতেন এবং ছদ্ম-বিজ্ঞান ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। উপরন্তু, তিনি সহযোদ্ধাদের সাথে মিলে প্রগতিশীল চিন্তাধারা প্রসারে করতে একটি প্রকাশনা সংস্থা গঠন করেন।নিলয়ের আগে ও পরে একই আদর্শে উদ্ধুব্ধ অনেকে এর আগে প্রাণ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন। – রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, জুলহজ মান্নান, মাহবুব তনয়, ফয়সাল আরেফিন দীপন, নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং আরো অনেকে।। নিলয়ও এদের কাতারে যোগ দেন যখন ৭ আগস্ট, ২০১৫ সালে নিজ বাসায় জীবনসঙ্গিনীর সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।তাঁর মৃত্যুর আগে নিলয় পুলিশের কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছিলেন, তিনি তাঁর অনুসরণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ শুধু তার অভিযোগ নিবন্ধন করতে অস্বীকার করেই নি, একই সাথে তাকে দেশ ছাড়ারও পরামর্শ দেয়। নাস্তিক লেখক এবং ব্লগারদের হত্যার কথা উপেক্ষা করা সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কৌশল ছিল। আমাদের ধারণা ধর্মান্ধ এবং প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির ভয়ে ভীত হয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র এবিষয়ে নীরবতা পালন করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষ বরং হত্যাকাণ্ডের উসকানি দিয়েছে নাস্তিকদের রচনাগুলি পর্নোগ্রাফি হিসেবে তুলনা করে এবং ঘোষণা করে যে নাস্তিকরা নিজেদের উপর এই বিপদ টেনে এনেছে। নিলয় মারা গেলে পুলিশের মহাপরিদর্শক একটি সংবাদ সম্মেলন করেন এবং ব্লগারকে সীমা অতিক্রম না করার জন্য বলেন।

দুর্ভাগ্যবশত, আনসার বাংলার মতো গোষ্ঠীগুলো এখন সব সীমা অতিক্রম করছে। এর পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্রের নৈতিক সমর্থনও প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। জঙ্গিরা নিলয় নীলের মত মানুষকে একের পর এক হত্যা করে এবং প্রতিবারই বাংলাদেশ সরকার এই ব্যাখ্যা দিয়ে এসেছে যে, এই লেখক ও কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের খুনের জন্য দায়ী।নিলয় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের গালিফতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আজ অবধি তারা আদালত থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ২৩ বার সময় নিয়েছে। সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর। বাকি মামলাগুলোর অনেকগুলোতে আবার আসামী ধরা পড়েনি, কিংবা সনাক্ত হয়নি। অভিজিৎ হত্যা মামলার প্রধান আসামী পুলিশের সাথে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে। অনন্ত বিজয় মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামীদের দুজন উচ্চ-আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায়, পরে তাদের পৃথক মামলায় আটক করা হয়। জুলহাজ-তনয় হত্যাকারীদের আজ অবধি সনাক্ত করা যায়নি।জুলহাজ-তনয় হত্যাকারীদের আজ অবধি সনাক্ত করা যায়নি।যদি বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে সাহস না পান, তবে আমরা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল শক্তি নিজেরাই আমাদের নিহত সহযোদ্ধাদের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতে আমৃত্যু কাজ করে যাবো।

নিলয় মারা গেছে, কিন্তু হাজারো নিলয় এখনো বেঁচে আছে । বাংলাদেশ রাষ্ট্র নিজের বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও মানবিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্য একদিন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে। আমরা এমন একটি পরিস্থিতিতে রয়েছি যেখানে ধর্মান্ধতার কোপানলে অনেক তাজা প্রাণ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু জ্ঞান ও যুক্তির আলোকে আমরা আবারো বিজয় ছিনিয়ে আনব। হাজারো চাপাতির আঘাতেও নিলয়ের উচ্চারিত একটি শব্দকেও স্তব্ধ করা যাবে না।



চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক : মনির চৌধুরী, সম্পাদক: মো: মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী সম্পাদক : মোঃ শফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ সৈয়দ ওমর ফারুক, নির্বাহী সম্পাদক: ঝরনা চৌধুরী।

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ১২ পুরানাপল্টন,(এল মল্লিক কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা)মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন বার্তা বিভাগ: ০২-৯৫৫৪২৩৭,০১৭৭৯-৫২৫৩৩২,বিজ্ঞাপন:০১৮৪০-৯২২৯০১
বিভাগীয় কার্যালয়ঃ যশোর (তিন খাম্বার মোড়) ধর্মতলা, যশোর। মোবাইল: ০১৭৫৯-৫০০০১৫
Email : news24mohona@gmail.com, editormsangbad@gmail.com
© 2016 allrights reserved to MohonaSangbad24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com