মতলবে ইউএনও‘র সহায়তায় জেসমিনের সফলতা; ইচ্ছা আর্মি অফিসার হয়ে দেশ সেবার

২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল জেসমিন আক্তার। পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে বিদ্যালয়ে গিয়ে হতভম্ব জেসমিন। সবার প্রবেশপত্র আসলেও তার পবেশপত্রটি আসেনি। অতঃপর কান্নাকাটি হৈ-চৈ। বিষয়টি প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টিগোচর হলে ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠে। তারপরও ওই বছর পরীক্ষায় অংগ্রহণ করতে পারেনি জেসমিন। খোজ নিয়ে জানা যায়, জেসমিনের নবম শ্রেণীর রেজিষ্ট্রেশনই হয়নি। অথচ ২০১৭-১৮ সনে নবম ও দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন সময়ে স্কুলের বেতন পরিশোধ করে সকল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্যও হয়েছিল সে। এমনকি নির্বাচনী পরীক্ষাতেও সকল বিষয়ে কৃতকার্য হয়ে এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরমপূরন করে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কারনে সে বছর আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা হয়নি জেসমিনের। এদিকে ০৭ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের এক অসহায়, হতদরীদ্র ও প্রতিবন্ধি বাবার মেয়ে জেসমিন। সংসার চলে জেসমিনের মায়ের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের উপর নির্ভর করে। পরাশুনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের স্কুলের খরচ ও সংসারে সহায়তা করার চেষ্টা করতো জেসমিন। এই পরিস্থিতিতে যখন তার পরাশুনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা প্রায়, তখনই যেন আশার আলো দেখালেন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমীন আক্তার। জেসমিন এই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমীন আক্তারের স্মরনাপন্ন হলে তিনি জেসমিনের পরাশুনার খরচসহ এমনকি মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করে তার যাবতীয় দায়ীত্ব নেন। জেসমিন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ঠাকুরচর গ্রামের প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলামের তৃতীয় মেয়ে। সে ছেংগারচর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। সে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
০৬ মে সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পরই তার মাকে নিয়ে চলে আসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে। জানায় সে পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২৮ পেয়ে পাস করেছে। তখন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জেসমিন আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে- ইউএনও মহোদয় যদি মায়ের ¯েœহে আমাকে গ্রহণ না করতেন, তাহলে আমার পরাশুনা বন্ধ হয়ে যেতো। এমনকি আমার দরিদ্র প্রতিবন্ধী বাবা হয়তো সংসারের ঘানি টানতে না পেরে মানুষের প্ররোচনায় বাধ্য হয়েই আমাকে বাল্য বিবাহ দিয়ে দিতেন। আমার আজকেই এই সফলতার পেছনে আমার মাতৃতুল্য ইউএনও মহোদয় কৃতিত্বের দাবীদার। আমি এজন্য তার কাছে চিরঋণী হয়ে থাকবো। আমি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর একজন অফিসার হয়ে দেশ সেবারমতো মহৎ কাজে অংশ নিতে চাই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমীন আক্তার বলেন, মেয়েটি ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরে আমার স্মরাণাপন্ন হয়। আমি তখন তার ও তার পরিবারের কথা চিন্তা করে মাতৃ¯েœহে তার পরাশুনার খরচসহ যাবতীয় দায়ীত্ব নেই। জেসমিনের বাবা একজন প্রতিবন্ধী, তাকে ভাতার ব্যবস্থা করি। দরিদ্র পরিবারে তার মা উপার্জনক্ষম বিধায় তাকে ব্যবসা প্রসারের জন্য আর্থিক সহায়তা করি। বাড়ীতে বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপের স্থাপন ও ঘরে বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করি। এটা আমাদের দায়ীত্বেরই একটা অংশ।

ইউএনও শারমীন আক্তারের স্বামী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ নাদিম ভূঁইয়া বলেন অসহায় জেসমিন আক্তারকে মেয়ের স্হেনে তার উচ্চ শিক্ষাসহ স্বপ্ন বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করে যাবো।

 



চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক : মনির চৌধুরী, সম্পাদক: মো: মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী সম্পাদক : মোঃ শফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ সৈয়দ ওমর ফারুক, নির্বাহী সম্পাদক: ঝরনা চৌধুরী।

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ১২ পুরানাপল্টন,(এল মল্লিক কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা)মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন বার্তা বিভাগ: ০২-৯৫৫৪২৩৭,০১৭৭৯-৫২৫৩৩২,বিজ্ঞাপন:০১৮৪০-৯২২৯০১
বিভাগীয় কার্যালয়ঃ যশোর (তিন খাম্বার মোড়) ধর্মতলা, যশোর। মোবাইল: ০১৭৫৯-৫০০০১৫
Email : news24mohona@gmail.com, editormsangbad@gmail.com
© 2016 allrights reserved to MohonaSangbad24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com