প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তসলীমুর রেজার খোলা চিঠি

মাননীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশ অাওয়ামীলীগ
প্রিয় অাপা,
অাপনি ও মনোনয়ন বোর্ডের দৃস্টি অাকর্ষনপূর্বক লিখতে বসলাম —–জানিনা, এই লিখা অাপানদের হাতে পৌছবে কিনা ?

অনেক ঝড়,ঝাপটা, চড়াই উৎড়াই পার হয়ে, অনেক আধাঁর ঘুচিয়ে এই দল ও দেশটাকে আপনি কত ত্যাগের মাধ্যমে বড় করে বিশ্বদরবারে দাড় করিয়েছেন, তা আজ দেশের প্রতিটি জনগন, প্রকৃতি, আকাশ বাতাস ও জানে।
আপা,
বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরি হিসাবে আপনার ব্যক্তি যোগ্যতা, দক্ষতা,সততা,ত্যাগ তিতিক্ষা বিচক্ষনতা ও সাহসী মনোভাবের কারনেই আজ বাংলাদেশ একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, অাপনাকে বিশ্ব মানবতার নেত্রী হিসাবে স্বিকৃতি দিয়েছে, অান্তরজাতিক সম্প্রদায়—–

আগামী নির্বাচন খুব সন্নিকটে। স্বাভাবিক ভাবেই সংসদ সদস্য হওয়ার অভিপ্রায় প্রতিটি গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদেরই থাকে।
একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী দলের স্বীকৃত কোন সংগঠনে সদস্য পদ থাকলে, বয়স ২৫ হলে, রাষ্ট্রদ্রোহী না হলে, সাজা প্রাপ্ত আসামি না হলে সেই নেতা বা কর্মী তার দলের কাছে নমিনেশনের জন্য আবেদন করতে পারেন।

যেহেতু সংসদ সদস্য নির্বাচনে জয়ী হতে হলে স্ব স্ব এলাকার জনগনের ভোটের মাধ্যমেই হতে হয়। জনগনের সাথে ওতপ্রোতভাবে সমন্বয় থাকতে হয়, তাদের ভোট নেওয়ার জন্য নির্বাচনী এলাকার ভোটারের মন জয় করতে হয়, ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা থাকতে হয়
এবং দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিয়ম করে দেওয়া হয় সেই নেতা/কর্মী /ব্যক্তি নমিনেশন পাবেন যিনি সেই এলাকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ও যার গ্রহনযোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততা বেশী।

সেহেতু আপা,
আমার প্রশ্ন হল প্রতিটি আসনেই তো একজন করে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আছেন। তাহলে যারা নতুন করে প্রার্থী হতে চাই তারা ঠিক কি উপায়ে জনগনের সাথে যোগাযোগ, সমন্বয়, সম্প্রীতির বন্ধন তৈরী করবেন-? তাদের জনসম্পৃক্ততা বা গ্রহনযোগ্যতা কিভাবে নির্ধারন করবেন ?

যেহেতু নমিনেশনের শর্তই হল সর্বোচ জনপ্রিয়, গ্রহনযোগ্য ও জনসম্পৃক্ততা থাকতে হবে, সৎ ও অাদর্শিক হতে হবে, সেহেতু তার তো অবশ্যই তার সেই এলাকার জনগনের সাথে যথাযথ ভাবে সুখে, দুঃখে উঠবসা, চলাফেরা করতে হবে।

আপা,
এই সব ক্ষেত্রে প্রতিটি এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্যরা যেই প্রার্থী হোক না কেন তাকে এবং তার অনুসারী প্রতিটি নেতা কর্মীকে হয়রাণী করে যাচ্ছেন-।
এমন কোন পন্থা নেই যে তার প্রতিপক্ষ নয়, প্রতিযোগী প্রার্থীর উপর প্রয়োগ করে না।
প্রার্থীর সাথে না পারলে তার অনুসারী সকল নেতা কর্মীর জিবন কে বিষিয়ে তোলে।
মিথ্যা মামলা,অযাচিত হামলা, ব্যবসা বানিজ্য, চাকরি, বাকরি সকল কিছুতেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।
তাহলে আপা কি ভাবে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হবে ?
কিভাবে সে জনগনের সাথে কাজ করবে ?
কিভাবে সে তার জনপ্রিয়তা যাচায়ের সুযোগ পাবে ?? কিভাবে অাদর্শ ও সততা প্রকাশ পাবে ?

আপা,
কত শত নেতা আছেন জনপ্রিয়, বয়সও ৫০/৬০ হয়ে গেছে, লীগ করতে করতে,অথচ জীবদ্দশায় একজন জনপ্রতিনিধি হতে পারেন না! তাদের ভিতর কি স্বপ্ন জাগে না-?

আপা,
বর্তমানে দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় এই সমস্যা টি চরম আকার ধারন করেছে। মাননীয় এমপিদের সাথে সামনে নমিনেশন প্রত্যাশী প্রার্থীদের সাথে জঘন্যতম গ্রুপিং শুরু হয়ে গেছে। রানিং এমপিরা যে যত ঘৃণ্যভাবে পারে তার প্রতিযোগী প্রার্থীকে নির্যাতন নিপীড়ন করে যাচ্ছে।
প্রতিযোগী প্রার্থী ও তার অনুসারী নেতা কর্মীদের উপর চালাচ্ছেন স্টিম রুলার।
এভাবে চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে দলের ভিতর মারাক্তক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

আপা,
আমার প্রশ্ন জাগে মনে, একজন নেতা রানিং এমপি হয়ে, মন্ত্রী হয়ে কি কারনে তার প্রতিযোগী প্রার্থী কে ভয় পায় ?
তাহলে তার দায়িত্ব পালন সময়ে তিনি জনগনের জন্য কি কোন কল্যাণ সাধনই করেন নাই-?

তিনি যদি সত্যিকারে জনগনের কল্যাণে কাজ করে থাকে, তাহলে শত প্রতিপক্ষ থাকলেই বা কি ?

যে নেতা জনগনের প্রকৃত বন্ধু তাকে কেউ হারাতে পারে না।

আপা,
আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ আপনি এই বিষয়টি কে গুরুত্ব দিয়ে একটি সঠিক রোড ম্যাপ দিয়ে দিবেন। যে নির্বাচনে যারা দলের প্রার্থী হতে চাই, তারা এলাকায় কিভাবে জনগনের সাথে সমন্বয় করবো, কিভাবে জনগনের সাথে কাজ করবো, জনগনের পাশে দাঁড়াবো।
তাহলে প্রতিটি নির্বাচনী আসনে ভাল ভাল নেতা কর্মীরা তাদের নেতৃত্বগুণ প্রকাশ করার সুযোগ পাবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব খুজে বের করতে সুবিধা হবে।

এবং কঠোর নির্দেশনা দিবেন যে কেউ অন্য কোন নতুন প্রার্থী কে অন্যায় ভাবে হেনস্তা করলে সে যতবড় নেতাই হোক তাকে দল থেকে চিরতরে বের করে দেওয়া হবে।
তাহলে আশা করা যায় সমস্যা অনেকটাই প্রশমতি হবে বলে দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি।

পরিশেষে আপা,
উপরে আল্লাহ্ নিচে আপনি, দলের এই দয়া ও দাক্ষিণ্যে যারা খেয়ে পরে বাড়ী গাড়ীর মালিক হয়েছে তারা অনেকেই তাদের পিছনের ইতিহাস বেমালুম ভুলে গেছে।

এরা আপনার এবং আপনার পিতার, আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের বুকে প্রতিনিয়ত কুঠারাঘাত করে যাচ্ছেন।
আপনি সময়ের প্রয়োজনে কঠোর হবেন এই প্রত্যাশা করি। অার যারা তিনবারের অধিক সাংসদ হয়েছেন তাদেরকে বিরতি দিয়ে নতুন নেতৃ্ত্ব মনোনিত করলে ভবিষ্যতে দলের মঙ্গল হবে বলে অাশা করি।

যারা বিভিন্ন দয়া দাক্ষিণ্যে নমিনেশন পেতেন তাদের এবার আর ছাড় দিবেন না প্লিজ!
জনগন ও দলের তৃণমূল যাকেই সমর্থন করবে বা গোয়েন্দা রিপোর্ট যার পক্ষে যাবে, আপনি সেই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবেন এই প্রত্যাশা করি।

আপা,

আপনি দল এবং দেশ সেবায় নিয়োজিত না থাকলে আমরা সকলে তৃণমুল দিকভ্রান্ত হয়ে যাব। আমাদের জীবন হয়ে যাবে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের এক কাল অধ্যায়।

মহান আল্লাহ্ আপনাকে দীর্ঘায়ু দান করুন আমিন।

জয়বাংলা -জয়বঙ্গবন্ধু।

তসলীমুর রেজা,
সদস্য, জেলাযুবলীগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।



চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক : মনির চৌধুরী, সম্পাদক: মো: মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী সম্পাদক : মোঃ শফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ সৈয়দ ওমর ফারুক, নির্বাহী সম্পাদক: ঝরনা চৌধুরী।

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ১২ পুরানাপল্টন,(এল মল্লিক কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা)মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন বার্তা বিভাগ: ০২-৯৫৫৪২৩৭,০১৭৭৯-৫২৫৩৩২,বিজ্ঞাপন:০১৮৪০-৯২২৯০১
বিভাগীয় কার্যালয়ঃ যশোর (তিন খাম্বার মোড়) ধর্মতলা, যশোর। মোবাইল: ০১৭৫৯-৫০০০১৫
Email : news24mohona@gmail.com, editormsangbad@gmail.com
© 2016 allrights reserved to MohonaSangbad24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com