ধর্মশালা নয়, প্রয়োজন মানবালয়

এ এস এম সাজ্জাদ হোসাইন :

যে দেশে সত্যের চর্চা নেই, সেখানে সত্যবাদিতা আশা করা বোকামি। সত্য বন্দি বলেই আমাদের হৃদয় বাড়ে না বরং সংকুচিত হয়। ধর্মশিক্ষার অবস্থাও তাই। কারণ ধর্ম সত্য প্রকাশে বাধা দেয়। কুসংস্কারগুলো ধামাচাপা দেয় বলেই সমাজে এর কোনো সুফল নেই। অর্থাৎ ধর্মের যেটুকু ভালো, সেটুকুর প্রভাবও এখন মানুষের উপর নেই।
অথচ ধর্ম পালন ও শেখাই মানুষের প্রধান কর্তব্য নয়। নিজেকে জানাই প্রধান। নিজেকে জানলে, অদৃশ্য-কাল্পনিক ঈশ্বর নামক কোনো জীবের কাছে মাথা নত করার প্রয়োজন নেই। নিজেই ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় সবকিছু উপলব্ধি করতে পারেন। ফলে তিনি কারো ক্ষতি করেন না, অসৎ উপায়ে ধন-সম্পদ বা চুরি-ডাকাতি, ঘুষ-দুর্নীতি… করেন না। কোনোকিছুর কাছে আত্মসমর্পণও করেন না। বিপদে দুর্বল হয়ে কাতর কণ্ঠে কাউকে ডাকেন না। হে ঈশ্বর, হে ঈশ্বর, গুণা/পাপ মাফ কর বলে চিৎকার বা কান্নাকাটিও করেন না, পরকালে (থাকলেও) মহাসুখের আশাও করেন না…। অর্থাৎ কথিত ঈশ্বর খুঁজতে হয় না, বরং ঈশ্বরই (যদি থাকে) তাকে খুঁজবে। কারণ এরূপ হৃদয়ে যে প্রীতি, ভক্তি, দয়ামায়া, স্নেহ-ভালোবাসা, সৌন্দর্য… আছে তা অনন্ত। সেই অনন্তকে যে একবার হৃদয়ে ধারণ করতে পারেন, তিনিই সফল এবং প্রকৃত মানুষ। অথচ মানুষ ঈশ্বর খুঁজছে ধর্মালয়ে, গৃহের কোণায়, গয়া-কাশি, বৃন্দাবন, মক্কা-মদিনায়…!
প্রতিটি ধর্মই মারাত্মকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব ও অহংবোধে আক্রান্ত। অংহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার ফলেই মানবতাবোধ থেকে অনেকাংশেই বিচ্যুত। অহংবোধের কারণেই বিধর্মীদের ঈশ্বরের সন্তান ভাবতে পারে না। এমনকি একই ধর্মানুসারী হয়েও নিজেদের মধ্যে ঘৃণা, বিভেদ, বৈষম্য চরমে। অথচ মানুষ এসব বোঝে না; না বোঝাটাও অংহকারের ফল। কারণ প্রচণ্ড অহংকারে আক্রান্ত ও আলো থেকে বিচ্যুত এবং জন্মান্ধ ধর্মের আলোতে আসার ও ভুল-ক্রুটি স্বীকারের সাহস নেই। সুতরাং যা অহংবোধে ভরা, তা সত্য নয় বরং মিথ্যা, নোংরা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন। অথচ এটাই পুরো মানবজাতিকে কৌশলে অহংকারের বিষপান করিয়ে মানসিকভাবে পঙ্গু করে রেখেছে।ধর্মান্ধ বলেই মানুষ মানবতার চেয়ে ধর্মকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য এবং মানবতাকে ধর্মের নিয়মে বেঁধে রেখেছে। কারণ ধর্মকে বড় করে দেখার অর্থই মানবতাকে ছোট করা। মানবতাকে ছোট করা মানেই, মনুষ্যত্বকে বলি দেয়া। মানুষ যেমনিভাবে প্রতিদিন চিরঅভ্যস্ত ও প্রথামত ঈশ্বরকে ডাকে, তেমনি রাগ, হিংসা, লোভ করে; মোহে পড়ে, ঘুষ-দুর্নীতি, মিথ্যাচার করে…।
প্রায় সব ধর্মরাষ্ট্রগুলোই প্রচণ্ড ক্ষমতালোভী, অগণতান্ত্রিক, স্বেচ্ছাচারি, একনায়ক কিংবা স্বৈরশাসক দ্বারা শাসিত। স্পষ্টতই এরা আইনের শাসনের চেয়ে ধর্মের শাসন বেশি পছন্দ করে। ফলে ক্ষমতা ধরে রাখতে কিংবা ক্ষমতায় যেতে, দরিদ্রের উন্নয়নের চেয়ে ধর্মের উন্নয়নকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।
ধর্মের এরূপ বহু স্বেচ্ছাচারিতার জন্য দায়ী- পরিবার, সমাজ এবং ঘোষিত-অঘোষিত ধর্মরাষ্ট্রগুলো। এসব রাষ্ট্রের প্রায় সব সাধারণ মানুষ এবং কর্ণধারেরা ধার্মিক হলেও, দৈন্যতা এবং পরস্পরের প্রতি বৈরিতায় পৃথিবীর সেরা। ফলে তারা বারবার এবং চিরপ্রথা/অভ্যাসমতে একই ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন এবং ধর্মালয় তৈরির চেয়ে মহৎ ও জনহিতকর কাজ খুঁজে পায় না! ধর্মালয় তৈরি ও ধর্মানুষ্ঠানের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচকে হতদরিদ্রদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের… স্থায়ী ব্যবস্থার চেয়েও মহা পূণ্যের কাজ বলে মনে করে
বর্তমানের লক্ষ লক্ষ ধর্মালয়গুলো কী মডেল বা আদর্শের নয়? তাহলে, হাজার হাজার বছর ধরে এগুলো কী- অনাদর্শ, অসততা, প্রলোভন, ঘৃণা, হিংসা, অহংকার, কুশিক্ষা, সন্ত্রাসের… শিক্ষা দিয়ে আসছে? এগুলো সব মানদণ্ডহীন বলেই কী দুর্নীতি কমছে না বরং বাড়ছেই? ‘মডেল মসজিদ’বানালে কী এসব বন্ধ হবে বা কমে যাবে? যদি মডেল মসজিদ বানিয়েও বাঙালিদের সৎ বানাতে ব্যর্থ হন, তাহলে- কী করবেন? আরো নতুন নতুন মহা-মডেল মসজিদ বানাতেই থাকবেন? অধমের মনে হচ্ছে- আপনারা ধর্মকে আদর্শ বানাতে মরিয়া, মানুষকে নয়! মানুষ যেহেতু অভ্যাসের দাস, সেহেতু হাজার হাজার বছরের অভ্যাস ছাড়াতে, হাজার হাজার ‘মডেল মসজিদ’ বানালেও হবে না।
গ্যারান্টি দিয়ে বলছি- ধর্ম পালন করে মানুষ ধার্মিক হতে পারে, সৎ হতে পারে না! যদি হতো, তাহলে ধার্মিকরাষ্ট্রগুলো প্রতিটিই বিশ্বের মডেল হতো! কিন্তু… হায়!!! তাই বলছি- মানুষকে আদর্শবান বানাতে হলে, কোন ধর্মালয়েরই প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষার পরিবর্তন। অর্থাৎ ধর্ম নয়, সর্বপ্রথমেই শিশুকে নৈকিতকতা তথা মানবিক (মানুষের প্রকৃত ধর্ম) শিক্ষা দিতে হবে। জানি, একথা শুনে ধার্মিকদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠছে- ধর্ম গেলো, খেয়ে ফেললো… বলে চিৎকার করছেন! ভাবছেন, গর্দভটা বলে কী? ধর্মের পরিবর্ততে মানবিকতা শিক্ষা! হ্যাঁ, বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই, পশ্চিমের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ধর্মকে কোথায় নামিয়েছে, আর মানবিকতাকে কোথায় উঠিয়েছে!



চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক : মনির চৌধুরী, সম্পাদক: মো: মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী সম্পাদক : মোঃ শফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ সৈয়দ ওমর ফারুক, নির্বাহী সম্পাদক: ঝরনা চৌধুরী।

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ১২ পুরানাপল্টন,(এল মল্লিক কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা)মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন বার্তা বিভাগ: ০২-৯৫৫৪২৩৭,০১৭৭৯-৫২৫৩৩২,বিজ্ঞাপন:০১৮৪০-৯২২৯০১
বিভাগীয় কার্যালয়ঃ যশোর (তিন খাম্বার মোড়) ধর্মতলা, যশোর। মোবাইল: ০১৭৫৯-৫০০০১৫
Email : news24mohona@gmail.com, editormsangbad@gmail.com
© 2016 allrights reserved to MohonaSangbad24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com