আল্লাহর নেয়ামত গুনে শেষ করা যাবে না

১৮. তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করলে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। আল্লাহ তো অবশ্যই ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু। (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৮)

তাফসির : আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত রয়েছে। আগের কয়েকটি আয়াতে উল্লেখযোগ্য কিছু নেয়ামতের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যত নেয়ামত রয়েছে, সেগুলো গুনে শেষ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই নেয়ামতের সমপরিমাণ শুকরিয়া জ্ঞাপন করাও মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহই মানুষের ভরসা। মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সৃষ্টিজগতের ওপর আল্লাহ তাআলার নেয়ামত এত বেশি যে দুনিয়ার সব মানুষ সমবেতভাবে সেগুলো গুনতে চাইলে তা গুনে শেষ করতে পারবে না। মানুষের নিজের অস্তিত্বই একটি বিশাল জগৎ। চোখ, কান, নাক, হাত, পা ও দেহের প্রতিটি গ্রন্থি ও শিরা-উপশিরায় আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নেয়ামত রয়েছে। সূক্ষ্মতম ও বিস্ময়কর হাজারো যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত প্রতিটি মানবদেহ। মানুষের শরীর যেন একেকটি ভ্রাম্যমাণ কারখানা। এর বাইরে আসমান, জমিন, পাহাড়, নদী ও অন্য অসংখ্য সৃষ্টিতে জড়িয়ে আছে আল্লাহর নেয়ামতরাজি। আধুনিক বিজ্ঞান এখনো এসব সৃষ্টির রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি। এসব নিয়ে চিন্তা করলে বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলার নেয়ামতরাজি গুনে শেষ করা বনি আদমের পক্ষে সম্ভব নয়। (তাফসিরে মা’আরেফুল কোরআন)

মানুষের অস্তিত্ব লাভ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। কোনো মানুষ নিজ ইচ্ছায় এ পৃথিবীতে আসেনি। সব সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ করে মহান আল্লাহ মানুষকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি পার্থিব জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ মানুষের সহজসাধ্য করে দিয়েছেন। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহ তাদের জীবন-জীবিকার পথ সুগম করেছেন। চাষাবাদের জন্য জমিন উর্বর করেছেন। বাতাস, ছায়া ও অক্সিজেনের জন্য বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন। পানির জন্য খাল-বিল, নদী-নালা, সাগর, ঝরনার ব্যবস্থা করেছেন। আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। মানুষের অসংখ্য কল্যাণের নিমিত্তে সূর্যের আলো জ্বালিয়েছেন। কর্মক্লান্ত দিন শেষে বিশ্রাম ও স্বস্তির জন্য রাতকে অন্ধকারময় ও কোলাহলমুক্ত করেছেন। পৃথিবীতে লাখো সৃষ্ট বস্তু থাকা সত্ত্বেও মহান আল্লাহ মানুষকে শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টির মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। পৃথিবীতে মানুষকে তিনি তাঁর প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন। যুগে যুগে পথভোলা মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন।

মানুষ আল্লাহর অবাধ্য হলেও তিনি ত্বরিত ও দ্রুত শাস্তি দেন না। তিনি তাঁর বান্দাকে তাওবা করার সুযোগ দেন। বান্দা তাওবা করলে তিনি তাকে ক্ষমার চাদরে জড়িয়ে ধরেন। বান্দা একটি ভালো কাজ করলে তিনি ১০টি প্রতিদান দান করেন। আবার কেউ একটি খারাপ কাজ করলে বিপরীতে একটি গুনাহই লেখার নির্দেশ দিয়েছেন। গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, জীবনের সব ক্ষেত্রেই আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহ ছড়িয়ে আছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বিভিন্নভাবে মানুষকে তাঁর অনুগ্রহ সম্পর্কে সচেতন করেছেন। মানুষের সুন্দর আকৃতি, রূপ-যৌবন, জ্ঞান-বুদ্ধি, সহায়-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি সব কিছুই আল্লাহর দান। এ পৃথিবী ও পৃথিবীর সব কিছু মানুষের উপকারে সৃজিত। এসব নেয়ামতের দাবি হলো আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের শ্রেষ্ঠতম পদ্ধতি হলো তাঁর ওপর ঈমান আনা। তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালিত করা।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক : মনির চৌধুরী, সম্পাদক: মো: মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী সম্পাদক : মোঃ শফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ সৈয়দ ওমর ফারুক, নির্বাহী সম্পাদক: ঝরনা চৌধুরী।

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ১২ পুরানাপল্টন,(এল মল্লিক কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা)মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন বার্তা বিভাগ: ০২-৯৫৫৪২৩৭,০১৭৭৯-৫২৫৩৩২,বিজ্ঞাপন:০১৮৪০-৯২২৯০১
বিভাগীয় কার্যালয়ঃ যশোর (তিন খাম্বার মোড়) ধর্মতলা, যশোর। মোবাইল: ০১৭৫৯-৫০০০১৫
Email : news24mohona@gmail.com, editormsangbad@gmail.com
© 2016 allrights reserved to MohonaSangbad24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com